স্পোর্টস ডেস্কঃ  চাপের মুখে সেঞ্চুরি করে দলকে একা টেনেছেন। দলও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০৩ রানের জয়ে প্রথম সিরিজ জিতেছে। তার পরও হতাশ মুশফিকুর রহিম। পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে হতাশার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘জয়ে অবদান রাখতে পারলে অবশ্য ভালো লাগে। তবে শেষ ১১টি বল খেলতে পারিনি বলে আমি খুবই হতাশ ছিলাম।’ এতেই প্রমাণ হয় দলের জন্য কতটা মরিয়া মুশফিক। শুধু এখানেই ব্যতিক্রম নন, ধারাবাহিকতা ও পরিশ্রমেও অনন্য নজির তিনি।

এই ধারাবাহিকতা অবশ্য এমনি এমনি আসেনি। প্রতিভাবান ছিলেন বলেই মাত্র ১৮ বছর বয়সে লর্ডসে মুশফিকের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিভাকে তিনি অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন কঠোর পরিশ্রম ও ইস্পাতকঠিন অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। দলের বিপদে যেন মুশফিকের ব্যাট আরও চওড়া হয়ে ওঠে। এই যেমন গতকাল দ্বিতীয় ওভারে মাঠে নেমে ৪৯ ওভারে আউট হওয়ার আগে একা টেনেছেন দলকে। কেবল মাহমুদুল্লাহ তাকে কিছুটা সঙ্গ দিয়েছেন। এক প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় স্বাভাবিক গতিতে ব্যাটও করতে পারেননি। তার পরও বল-রানে পার্থক্য ছিল না। ১২৫ রান করেছেন ১২৭ বলে। আগের ম্যাচেও একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে। সেদিনও শুরুতে কয়েকটি উইকেট পড়ে গিয়েছিল। সেদিনও মাহমুদুল্লাহকে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন। তবে গতকাল দু’জনের জুটিটা সেদিনের মতো লম্বা হয়নি। এতে বরং মুশফিকের জন্য শাপেবরই হয়েছে। সেদিনের মতো সেঞ্চুরি মিস করেননি মুশফিক।

আগের ম্যাচে ৮৭ বলে ৮৪ রান করেছিলেন ৪টি চার ও ১টি ছয়ে। গতকাল মুশফিককে অধিকাংশ সময় আরও মন্থর গতিতে খেলতে হয়েছে। প্রথম ৭৮ রান করেছেন তিনি ১০১ বলে, যেখানে চারের মার ছিল মাত্র দুটি। দল বিপদে ছিল বলেই ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলেননি মুশফিক; বরং সিঙ্গেল-ডাবলসে ইনিংস গড়েছেন। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র কন্ডিশনে এভাবে খেলাটা চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। শারীরিক সামর্থ্যের সঙ্গে প্রচণ্ড ফিটনেস না থাকলে এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম করে এই বিরুদ্ধ কন্ডিশনে দীর্ঘ সময় ধরে লড়াইয়ের জন্য নিজেকে তৈরি করেছেন মুশফিক। ছুটি থাকুক, বৃষ্টি থাকুক, ঝড় থাকুক, কিংবা লকডাউন- মুশফিকের অনুশীলনে কোনো বিরতি নেই। পরিশ্রমের ফলই এই ধারাবাহিকতা। অনুশীলন নিয়ে তার এই সিরিয়াসনেস দেখে অনেকেই টিপ্পনী কাটতেন। এখন অবশ্য সবাই নজির হিসেবে তাকে তুলে ধরে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুশফিক যে কতটা পরিণত হয়েছেন, তা একটি পরিসংখ্যানে পরিস্কার হয়ে যায়। পনেরো বছরের ক্যারিয়ারে ২২৬ ওয়ানডেতে তার রানের গড় ৩৭.২৩। এর মধ্যে গত পাঁচ বছরে ৬৮ ওয়ানডেতে তার গড় ৫৮.১৬!