newsup

মার্চ ২৯, ২০২১

বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার দশকে পদার্পণ

বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার দশকে পদার্পণ

নিউজ ডেস্কঃ  ব্যাংকে না গিয়েও যে আর্থিক সেবা মিলবে, এমন আলোচনা ১০ বছর আগে শুরু হয়নি। নব্বইয়ের দশকে যখন দেশে মোবাইল ফোনের ব্যবহার শুরু হয়, এই ফোনই যে একসময় অনেক আর্থিক লেনদেনের বড় মাধ্যম হয়ে উঠবে, এমন পূর্বাভাসও তখন কেউ দেয়নি। আর এক দশক আগে যখন মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক সেবা (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংকিং শুরু হয়, তখন এই সেবার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তবে এক দশক পর বাস্তবতা হলো বিকাশ, রকেট, নগদের মতো সেবা এখন প্রতি মুহূর্তের আর্থিক প্রয়োজনে অপরিহার্য অংশ। হাতের মুঠোফোনটিই এখন নগদ টাকার চাহিদা মেটাচ্ছে।

দেশের জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এখন এসব সেবার গ্রাহক। সারা দেশে এসব সেবায় নিবন্ধন হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি। যদিও সক্রিয় ব্যবহারকারীর হিসাব ৫ কোটির কিছুটা কম। ১২ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের দেশে এই সংখ্যা নেহাত কম নয়।

এখন মোবাইল ব্যাংকিং শুধু টাকা পাঠানোর মাধ্যম না। এর ব্যবহার হচ্ছে সব ধরনের ছোট ছোট লেনদেনে। বিশেষ করে পরিষেবা বিল পরিশোধ, স্কুলের বেতন, কেনাকাটা, সরকারি ভাতা, টিকিট ক্রয়, বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ ও অনুদান প্রদানের অন্যতম মাধ্যম। আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা জমা করতে এখন আর এজেন্টদের কাছেও যেতে হচ্ছে না। ব্যাংক বা কার্ড থেকে সহজেই টাকা আনা যাচ্ছে এসব হিসাবে। আবার এসব হিসাব থেকে ব্যাংকেও টাকা জমা শুরু হয়েছে, ক্রেডিট কার্ড বা সঞ্চয়ী আমানতের কিস্তিও জমা দেওয়া যাচ্ছে। এর ফলে একটি মুঠোফোনই যেন একেকজনের কাছে নিজের ব্যাংক হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশে মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক সেবার যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালের মার্চে। বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথম এ সেবা চালু করে। পরে এটির নাম বদলে হয় রকেট। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এমএফএস সেবা চালু করে বিকাশ। পরবর্তী সময়ে আরও অনেক ব্যাংক এ সেবায় এসেছে। তবে খুব সুবিধা করতে পারেনি। বর্তমানে বিকাশ, রকেটের পাশাপাশি মাই ক্যাশ, এম ক্যাশ, উপায়, শিওর ক্যাশসহ ১৫টি ব্যাংক এ সেবা দিচ্ছে। এ বাজারের ৭০ শতাংশের বেশি বিকাশের নিয়ন্ত্রণে, এরপরই রকেটের। বাকিটা প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু লেনদেন হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি শেষে এ সেবার গ্রাহকসংখ্যা ১০ কোটি ৫ লাখ। এর মধ্যে সক্রিয় গ্রাহক ৩ কোটি ২৪ লাখ। আর দেশজুড়ে এ সেবা দিতে এজেন্ট রয়েছেন ১০ লাখ ৪৪ হাজার। জানুয়ারিতে গড়ে দৈনিক লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। এই মাসে সব মিলিয়ে ২৯ কোটি ৯২ লাখ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বিকাশের গ্রাহক ৫ কোটি ৪০ লাখ ও রকেটের গ্রাহক ৩ কোটির বেশি। এর বাইরে ডাক বিভাগের সেবা নগদের নিবন্ধিত গ্রাহক ৩ কোটি ৮০ লাখ। তবে সক্রিয় গ্রাহক ১ কোটি ৭৫ লাখের কাছাকাছি। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। ২০১৯ সালের মার্চে চালু করা এই সেবা দুই বছরে বড় বাজার নিয়েছে। এ লেনদেন চিত্রেই বোঝা যায়, মানুষ কতটা এই সেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। মানুষের জীবনের সঙ্গে কতটা মিশে গেছে নতুন এই সেবা।

মোবাইল ব্যাংকিং সেবা যেমন শিল্পপতিদের জন্য সুবিধা করে দিয়েছে, আবার রোকসানা বেগমের মতো গৃহকর্মী ও কম আয়ের মানুষের কাছে বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। কারণ, অনেক শিল্পপতিকে এখন আগের মতো মাস শেষে ব্যাংক থেকে বস্তায় টাকা ভরে কারখানায় নিতে হয় না। স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন–ভাতা চলে যায় শ্রমিকদের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে।

  • বাংলাদেশে মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক সেবা শুরু হয় ২০১১ সালের মার্চে
  • ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথম সেবাটি চালু করে, যার নাম এখন রকেট
  • পরে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিকাশ সেবা চালু হয়
  • ২০১৯ সালের মার্চে চালু হয় ডাক বিভাগের সেবা নগদ
  • ১৪ কোটি হিসাব, দৈনিক লেনদেন ২২০০ কোটি টাকা

তবে এ সেবার মাশুল এখনো অনেক বেশি। এক হাজার টাকা তুলতে গ্রাহকদের খরচ করতে হয় সাড়ে ১৮ টাকা। নগদ সেবায় খরচ কিছুটা কম। এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, যে মাশুল আদায় হয়, তার ৬০ শতাংশের বেশি এজেন্টদের দেওয়া হয়। এরপর নেটওয়ার্ক খরচ দিতে হয়। বাকিটা প্রতিষ্ঠান পরিচালনাতে খরচ হয়। দিন শেষে মুনাফা হয় খুব কম। তবে দিন শেষে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে প্রায় ৭ হাজার হাজার কোটি টাকার বেশি জমা থাকছে। এসব অর্থের সুদ থেকেই ব্যবসা চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দিনে পাঁচবারে ৩০ হাজার টাকা জমা করা যায়। মাসে ২৫ বারে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা। আর এক দিনে ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন ও ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি হিসাবে পাঠানো যায়। এখন গ্রাহকেরা ঘরে বসে এমএফএস হিসাব খুলতে পারেন। রয়েছে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা স্থানান্তরের সুবিধাও। তাই মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব এখন সবার হাতের মুঠোয়। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সেবাটি নেওয়ার সুযোগ থাকায় করোনার মধ্যে এ সেবার চাহিদা আরও বাড়ছে।


সর্বশেষ সংবাদ

ইন্টারনেট বিভ্রাটের নেপথ্যে ‘সফটওয়্যার বাগ’, তদন্ত চলছে…

ইন্টারনেট বিভ্রাটের নেপথ্যে ‘সফটওয়্যার বাগ’, তদন্ত চলছে…

নিউজ ডেস্কঃ ফাস্টলি বলছে, সফটওয়্যার বাগের কারণে অফলাইনে চলে গিয়েছিল প্রথম সারির অনেক ওয়েবসাইট। মঙ্গলবারের ওই ইন্টারনেট বিভ্রাটের শিকার হয়েছিল

বিশ্বসেরার তালিকায় দেশের ৪ বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্বসেরার তালিকায় দেশের ৪ বিশ্ববিদ্যালয়

নিউজ ডেস্কঃ বিশ্বসেরার তালিকায় দেশের চার বিশ্ববিদ্যালবিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে জায়গা পেয়েছে দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষাবিষয়ক যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেল সাইমন্ডস (কিউএস) মঙ্গলবার

সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচনের তারিখ পেছাল

সিলেট-৩ আসনে উপনির্বাচনের তারিখ পেছাল

নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সিলেট-৩ সহ তিনটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের তারিখ পিছিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ

আজ শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস

আজ শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস

নিউজ ডেস্কঃ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ। দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন

কোপা আমেরিকার জন্য শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল আর্জেন্টিনা

কোপা আমেরিকার জন্য শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্কঃ ১৩ জুন থেকে ব্রাজিলে শুরু হচ্ছে কোপা আমেরিকার এবারের আসর। টুর্নামেন্টটির জন্য ২৮ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা।

ইরানকে অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট দিচ্ছে রাশিয়া

ইরানকে অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট দিচ্ছে রাশিয়া

নিউজ ডেস্কঃ ইরানকে অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট দিতে যাচ্ছে রাশিয়া। একটি মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য

১০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১০ লাখ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্কঃ কোভ্যাক্সের আওতায় বাংলাদেশকে ১০ লাখ ৮০০ ডোজ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ শুক্রবার দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে

নতুন সেনাপ্রধান লে. জে. এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ

নতুন সেনাপ্রধান লে. জে. এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ

নিউজ  ডেস্কঃ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব