newsup

ডিসেম্বর ৩০, ২০২০

শতবর্ষ পরে মহামারীতে বিধ্বস্ত পুরো বিশ্ব

শতবর্ষ পরে মহামারীতে বিধ্বস্ত পুরো বিশ্ব

করোনা মহামারী দিয়ে শুরু হয়েছে ২০২০ সাল। জোড়া সংখ্যার এ বছরটি মানুষের জন্য বয়ে এনেছে বিভীষিকাময় দিন। ১০০ বছর আগে ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষপ্রান্তে এসে মাথাচাড়া দেয় মারণ ভাইরাস স্প্যানিশ ফ্লু। প্রাণ হারান পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ। যদিও এ রোগের জন্ম উত্তর আমেরিকায়।

বিশ্বযুদ্ধের আবহে ভাইরাস সংক্রান্ত খবরে বিধিনিষেধ জারি করে বিভিন্ন দেশ। শুধু ব্যতিক্রম ছিল স্পেন। ওই সময় স্পেনের সংবাদমাধ্যমে এ রোগের খবর ফলাও করে প্রচারিত হয়। এ থেকেই ভাইরাসটির নাম স্প্যানিশ ফ্লু।

গবেষকদের একাংশের দাবি, করোনা ও স্প্যানিশ ফ্লুয়ের মধ্যে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি। দুই ভাইরাসই মানুষের শ্বাসযন্ত্রে আক্রমণ করে৷ করোনা ও স্প্যানিশ ফ্লুয়ের মধ্যে এর থেকে বেশি মিল নেই৷ করোনায় মৃতদের মধ্যে ১৮ শতাংশই ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে৷ করোনায় ৫০ বছরের নিচে মৃতের সংখ্যা এক শতাংশেরও কম৷ স্প্যানিশ ফ্লুতে মৃতদের মধ্যে বেশির ভাগেরই বয়স ২৫-৪০ এর মধ্যে৷ মৃতের তালিকায় ৬৫ ঊর্ধ্বরা তুলনামূলক কম৷

স্প্যানিশ ফ্লুতে তরুণদের মৃত্যুহার কেন এত বেশি? এর সঠিক উত্তর নেই গবেষকদের কাছে। তবে চিকিৎসকদের একাংশের ধারণা- ১৮৮৫ সালের আগে স্প্যানিশ ফ্লু’র মতো কোনো ভাইরাস হানা দিয়েছিল। সেই ভাইরাসের তীব্রতা কম থাকায় মহামারীর চেহারা নেয়নি। তবে সেই সময়ে অনেকেই সেই ভাইরাসে আক্রান্ত হন। ফলে অনেক মানুষের শরীরে ভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে যায়। এই অ্যান্টিবডির কারণেই প্রবীণদের মধ্যে বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি স্প্যানিশ ফ্লু। তাই স্প্যানিশ ফ্লুয়ে মৃতের তালিকায় তরুণদের সংখ্যা এত বেশি ছিল৷

মিল না থাকুক, করোনা ও স্প্যানিশ ফ্লু রুখতে নেয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অনেক মিল পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ১০০ বছর আগেও স্প্যানিশ ফ্লু ঠেকাতে গৃহবন্দি থাকতে হয়েছিল মানুষকে। পরতে হয়েছিল মাস্ক। ১০০ বছর পর আবার ফিরে এলো একই চিত্র।

এর আগে ১৭২০ সালে শুরু হয়েছিল প্লেগ অফ মার্সেই। পৃথিবীজুড়ে এক লাখ মানুষ এতে আক্রান্ত হয়ে মত্যুবরণ করেছিল। ফ্রান্সে ৪৫ বছরের জন্য কমে এসেছিল জন্মহার। ফের শতবর্ষ পরে ১৮১৭ সালে শুরু হয় কলেরা। ১৮২০ সালে সেই কলেরা সর্বোচ্চ আকার ধারণ করে। তবে কলেরাতে কত লোক মারা গেছে তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না।

যদিও ২০১৯ সালের শেষ দিন চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়; কিন্তু ভাইরাসটির ধ্বংসলীলা অনুভব করতে পারেনি বিশ্ব। কতটা ভয়ানক হতে পারে এ আঘাত। ঠিক নতুন বছরের শুরু থেকেই তাণ্ডব চালাতে থাকে ভাইরাসটি। বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে অদৃশ্য শত্রুর বিস্তার। সবশেষ পৃথিবীর শীতলতম মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকাতেও ছড়িয়ে পড়ে এ ভাইরাস।

আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, প্রায় ২০ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর এতে আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ৭৮ কোটি মানুষ। চাকরি হারিয়ে বেকার হয়েছেন কয়েক কোটি মানুষ। উন্নত বিশ্বে এর প্রভাব যেভাবে পড়েছে তার চেয়ে বেশি পড়েছে দরিদ্র দেশগুলোতে।

বিশ্বের দেশগুলো সতর্কতা অবলম্বন করলেও রেহাই পায়নি এ ভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে। করোনার প্রকোপ প্রথমে দেখা দেয় ইউরোপের দেশগুলোতে। পরে এশিয়া, আফ্রিকা সব দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে এ ভাইরাসটি ধরা পড়ে চলতি বছরের ৮ মার্চ। আর এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম ১৮ মার্চ একজন মারা যান।

দেশে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে। আর এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশঙ্কা করছে ইউরোপের দেশগুলোয় জানুয়ারিতে করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হতে পারে।

এমন আশঙ্কার মধ্যে সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তারপর তা গোটা যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। অক্টোবরে ব্রিটেনে যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ৫০ শতাংশই এ নতুন বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসের কবলে পড়েছেন। এ ভাইরাসটির নতুন ধরন অস্ট্রেলিয়া ও ইতালিতেও পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সব দেশ ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানানো হয়েছে।

বছর শেষে সফল ভ্যাকসিন তৈরিতে কয়েকটি দেশের নাম এসেছে। এর মধ্যে প্রভাব বিস্তার করেছে মার্কিন কোম্পানি ফাইজার ও জার্মান কোম্পানি বায়োএনটেক কোম্পানির ভ্যাকসিন। যদিও রাশিয়া তাদের স্পুটনিক ভি নামে করোনাভাইরাসের টিকার সফলতা দাবি করছে। ইতোমধ্যেই অনেক দেশে এটি পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে ফাইজার ও বায়োএনটেকের টিকা যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এসব টিকা দরিদ্র দেশগুলো কবে পাবে তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ২০২১ সালেও থাকবে করোনার ভয়ঙ্কর থাবা। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, নতুন বছরে করোনার তৃতীয় ঢেউ শুরু হবে। কোথায় গিয়ে থামবে এর ধ্বংসলীলা তা কেউ ধারণা করতে পারছেন না।


সর্বশেষ সংবাদ

জবিতে ভর্তির মেধাতালিকা প্রকাশ

জবিতে ভর্তির মেধাতালিকা প্রকাশ

নিউজ ডেস্কঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ১ম বর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তির মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) বিকাল

গরু দুধ না দেওয়ায় থানায় অভিযোগ কৃষকের

গরু দুধ না দেওয়ায় থানায় অভিযোগ কৃষকের

নিউজ  ডেস্কঃ নানা অভিযোগ নিয়ে থানায় যান মানুষ। কিন্তু গরু দুধ না দেওয়ায় অভিযোগে থানায় উপস্থিত হওয়ার খবর শুনে অনেকেই

ক্যাটরিনার বিয়েতে যাচ্ছে সালমানের গোটা পরিবার

ক্যাটরিনার বিয়েতে যাচ্ছে সালমানের গোটা পরিবার

বিনোদন ডেস্কঃ ক্যাটরিনা কাইফ ও ভিকি কৌশলের ভক্ত-অনুরাগীদের প্রতীক্ষার অবসার ঘটতে চলেছে আজ।  বর্তমান সময়ে বলিউডের সবচেয়ে আকাঙিক্ষত জুটি সাত

করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি নয়

করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি নয়

নিউজ ডেস্কঃ ২০১৯ সালে বিশ্বে হঠাৎ হানা দেয় নতুন ভাইরাস। ভালো করে কিছু বোঝার আগেই মহামারি থেকে অতিমারির আকার নেয়

প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোবাইল সচল রাখতে

প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোবাইল সচল রাখতে

নিউজ ডেস্কঃ দুর্যোগের সময় বিদ্যুতের গোলযোগ ঘটে এ সময় ফোনে চার্জ না থাকলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। ঝড়ের প্রভাবে ভেঙে

ফ্রান্সে খাশোগি হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

ফ্রান্সে খাশোগি হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

নিউজ ডেস্কঃ সৌদি আরবের রাজপরিবারের কঠোর সমালোচক যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যায় জড়িত সন্দেহে এক সৌদি নাগরিককে ফ্রান্সে গ্রেফতার করা

সিলেটসহ ৫ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট হচ্ছে

সিলেটসহ ৫ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট হচ্ছে

নিউজ ডেস্কঃ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ৭ হাজার ৪৪৭ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন

ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ওমিক্রন থামাবে না: ডব্লিউএইচও

ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ওমিক্রন থামাবে না: ডব্লিউএইচও

নিউজ ডেস্কঃ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন। এর বিস্তার রোধে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। তবে এই