editor

আগস্ট ৩১, ২০২০

চার লেন হচ্ছে না সিলেটের সেই সড়ক!

চার লেন হচ্ছে না সিলেটের সেই সড়ক!

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম প্রধান জাকির হোসেনের নেতৃত্বে গেল ৮ আগস্ট সিলেট সফর করেছিল একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সিলেটের কুমারগাঁও-বাদাঘাট-বিমানবন্দর বাইপাস সড়ককে চার লেনে উন্নীত করা যায় কি-না, তা খতিয়ে দেখতেই আসা তাঁদের।

ফেরার আগে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ওই প্রতিনিধি দলটি সিলেটের রাজনীতিবিদ ও পেশাজাবীদের সাথে মতবিনিময় করে। যেখানে প্রতিনিধি দলের প্রধান কুমারগাঁও-বাদাঘাট-বিমানবন্দর সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে তিন মাসের মধ্যে প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি ও ছয় মাসের মধ্যে কাজ শুরুর কথা বলেছিলেন।

কিন্তু ঢাকায় ফিরে প্রতিনিধি দলের প্রধান জাকির হোসেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, সেখানে চার লেনের কাজ শুরুর কথা দূরে থাক, প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কথাও নেই। বরঞ্চ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সড়কটি এখন দুই লেনে নির্মাণ করলেই চলবে। তবে ভবিষ্যতে ‘প্রয়োজনীয়তা বিবেচিত হলে’ এটিকে চার লেনে উন্নীত করার বিষয়টি ‘বিবেচনা করা যেতে পারে’। এজন্য এখন চার লেনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে প্রতিনিধি দল।

প্রেক্ষাপট যেমন ছিল :
সিলেটের কুমারগাঁও-বাদাঘাট-বিমানবন্দর বাইপাস সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার। ২০১০ সালের ৪ আগস্ট এ সড়কটির নির্মাণকাজের সূচনা হয় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ আবুল মাল আব্দুল মুহিতের হাত ধরে। কিন্তু পরিপূর্ণ হয়নি সড়কের কাজ। ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ পূর্ণাঙ্গ হওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ের পর ২০১৪ সালে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

পাথরবাহী ট্রাকের চলাচল, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী ও তাদের স্বজনদের আসা-যাওয়া, পর্যটকবাহী যানবাহনের জন্য সহজ যাতায়াত সুবিধা এবং বাদাঘাট এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের দিক বিবেচনা করে ওই বাইপাস সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার দাবি ওঠে। সিলেটের বিভিন্ন মহল থেকে ওঠা দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সিলেট থেকে চার লেনের একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়।

২০১৭ সালে আরেগ প্রস্তাব সংশোধন করে চার লেনের সাথে দুটি সার্ভিস লেন যুক্ত করে সংশোধিত প্রস্তাবনা পাঠানো হয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে। সেই প্রস্তাবনা সংশোধন করা হয় আরো একবার। বছরখানেক আগে চার লেনের সড়ক প্রকল্পের প্রস্তাবনাই যায় মন্ত্রণালয়ে।

সময় গড়িয়েছে ১০ বছর। প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশোধনও চলছে একের পর এক। কিন্তু কুমারগাঁও-বাদাঘাট-বিমানবন্দর বাইপাস সড়ক নির্মাণের অগ্রগতি আর হয়নি কিছুই।

প্রতিনিধি দলের সফর :
সম্প্রতি কুমারগাঁও-বাদাঘাট-বিমানবন্দর বাইপাস সড়কটি দুই লেনেই নির্মাণের পক্ষে মত দেন সড়ক সচিব। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সিলেট থেকে রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে একটি প্রতিনিধি দল গঠন করে পাঠানো হয় সিলেটে। ওই বাইপাস সড়কের প্রকৃত অবস্থা এবং চার লেনে উন্নীতকরণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে পাঠানো হয় দলটিকে।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম প্রধান জাকির হোসেনের নেতৃতে উপ-প্রধান শামিমউজ্জামান, সওজের রোড সেফটি স্ট্যান্ডার্ড বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর সিদ্দিকী ও পরিকল্পনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিন রেজা ছিলেন প্রতিনিধি দলে।

গেল ৮ আগস্ট প্রতিনিধি দলটি কুমারগাঁও-বাদাঘাট-বিমানবন্দর সড়ক পরিদর্শন করেন। সড়কটির বাস্তব অবস্থা ও আগের প্রস্তাবিত নকশা পর্যবেক্ষণ করেন তাঁরা। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সিলেট কর্তৃক তৈরীকৃত প্রস্তাবিত চার লেনের নকশায় ত্রুটি থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিনিধি দলের প্রধান। তিনি অভিজ্ঞ সার্ভেয়ার দল নিয়োগ করে ডিজিটাল সার্ভে (টিবিএম) দিয়ে দ্রুত সংশোধিত নকশা তৈরি করতে নির্দেশ দেন।

এই প্রতিনিধি দল সিলেট নগরীর রায়নগরে সওজের রেস্টহাউজে রাজনীতিবিদ ও পেশাজাবীদের সাথে মতবিনিময় করেন। ওই সময় প্রতিনিধি দলের প্রধান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্ম প্রধান জাকির হোসেন বলেছিলেন, ‘বাইপাস সড়কটির বাস্তবতা অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্যই আমরা সিলেটে এসেছি। আমাদের পর্যবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট দফতরে জানাবো। আগের প্রস্তাবিত নকশা সংশোধনের মাধ্যমে সড়কটির পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হবে। এতে ২-৩ মাস সময় লাগতে পারে। আর ছয় মাসের মধ্যে কাজ শুরু হওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’

প্রতিনিধি দলের মতামত :
৮ আগস্ট সিলেটে এসে আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে যাওয়া জাকির হোসেন ঢাকায় গিয়ে ১৭ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনে জাকির হোসেন উল্লেখ করেছেন, ‘বর্তমানে যে পরিমাণ ট্রাফিক/যানবাহন চলাচল করে, এ ট্রাফিক বিবেচনায় কমিটির কারিগরি সদস্যদের মতামত অনুযায়ী প্রস্তাবিত সড়কটি ২-লেনে নির্মাণ করলেই বিদ্যমান সমস্যা সমাধান হবে মর্মে প্রতীয়মান হয়। তবে ভবিষ্যতে ট্রাফিক ভলিউম বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণের ফলে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ৪-লেনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের সংস্থান রাখা যেতে পারে। এছাড়া, ভারী মালবাহী ট্রাক/অন্যান্য যানবাহন অর্থাৎ, ট্রাফিক বিবেচনায় এবং সয়েল কন্ডিশন পরীক্ষণে অদূর ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয়ত বিবেচিত হলে এ পর্যায়ে ৪-লেনে নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।’

যা বলছেন সচেতন মহল :
সচেতন মহল বলছেন, কুমারগাঁও-বাদাঘাট-বিমানবন্দর সড়কটি যদি চার লেনে উন্নীত করা না-ই হবে, তাহলে বছরের পর বছর ধরে সড়কটিকে এভাবে ফেলে রাখা হলো কেন। দুই লেনের কাজ কেন সম্পূর্ণ করা হলো না। সড়ক ও জনপথ বিভাগ চার লেনের নকশা করে প্রস্তাবনা দিয়েছিল মন্ত্রণালয়ে। তারা নিশ্চয়ই গুরুত্ব বিবেচনায় এ প্রস্তাবনা দিয়েছিল। এখন কেন সেই প্রস্তাবনা ‘গুরুত্বহীন’ হয়ে পড়ছে।

তারা বলছেন, ২০১০ সালে কাজ শুরু হওয়া সড়কটি ঘিরে যে দীর্ঘসূত্রিতার অবতারণা করা হলো, তা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট শাখার সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী সিলেটভিউকে বলেন, ‘সবসময়ই আমরা শুনি যে, এটা হচ্ছে, সেটা হচ্ছে। কিন্তু কিছুই হয় না, ফাঁকিবাজি চলে।’

তিনি বলেন, ‘যে সড়কের কথা বলা হচ্ছে, এটা চার লেনে উন্নীত করা দরকার। কারণ, সামনের দিনগুলোতে এ সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাবে। একদিকে ওসমানী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জে আইসিটি পাকও হচ্ছে। এছাড়া পাথরবাহী ট্রাক, পর্যটকবাহী যানবাহন তো আছেই। সবমিলিয়ে অন্তত ৫০ বছরের পরিকল্পনায় সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা জরুরি। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, তা পরিকল্পনাহীনভাবে দিয়েছেন বলে আমরা মনে করছি।’

সচেতন সমাজের এই প্রতিনিধি বলেন, ‘ব্যর্থ, অযোগ্য, অথর্বরা নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষকে ফাঁকি দিতে চায়। এরই উদাহরণ এই সড়ক নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা। এটা কাম্য নয়। সময় যতো গড়াবে, ব্যয়ও ততো বেড়ে যাবে। তাই সড়কটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেটের এক ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘এখানে সিলেটবিদ্বেষী মনোভাবের গন্ধ পাচ্ছি। সিলেটের সকল মহল যে সড়কটি চার লেন করার কথা বলছেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগও গুরুত্ব বুঝে চার লেনের নকশা করলো, সেই সড়ক দুই লেনে রাখার পক্ষে কেন মত দিচ্ছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিনিধি দল? তারা তো সিলেটে আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে গেলেন। ঢাকায় গিয়ে এরকম প্রতিবেদন কেন দিলেন!’


সর্বশেষ সংবাদ

জবিতে ভর্তির মেধাতালিকা প্রকাশ

জবিতে ভর্তির মেধাতালিকা প্রকাশ

নিউজ ডেস্কঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ১ম বর্ষে শিক্ষার্থীদের ভর্তির মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) বিকাল

গরু দুধ না দেওয়ায় থানায় অভিযোগ কৃষকের

গরু দুধ না দেওয়ায় থানায় অভিযোগ কৃষকের

নিউজ  ডেস্কঃ নানা অভিযোগ নিয়ে থানায় যান মানুষ। কিন্তু গরু দুধ না দেওয়ায় অভিযোগে থানায় উপস্থিত হওয়ার খবর শুনে অনেকেই

ক্যাটরিনার বিয়েতে যাচ্ছে সালমানের গোটা পরিবার

ক্যাটরিনার বিয়েতে যাচ্ছে সালমানের গোটা পরিবার

বিনোদন ডেস্কঃ ক্যাটরিনা কাইফ ও ভিকি কৌশলের ভক্ত-অনুরাগীদের প্রতীক্ষার অবসার ঘটতে চলেছে আজ।  বর্তমান সময়ে বলিউডের সবচেয়ে আকাঙিক্ষত জুটি সাত

করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি নয়

করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি নয়

নিউজ ডেস্কঃ ২০১৯ সালে বিশ্বে হঠাৎ হানা দেয় নতুন ভাইরাস। ভালো করে কিছু বোঝার আগেই মহামারি থেকে অতিমারির আকার নেয়

প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোবাইল সচল রাখতে

প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোবাইল সচল রাখতে

নিউজ ডেস্কঃ দুর্যোগের সময় বিদ্যুতের গোলযোগ ঘটে এ সময় ফোনে চার্জ না থাকলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। ঝড়ের প্রভাবে ভেঙে

ফ্রান্সে খাশোগি হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

ফ্রান্সে খাশোগি হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার

নিউজ ডেস্কঃ সৌদি আরবের রাজপরিবারের কঠোর সমালোচক যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যায় জড়িত সন্দেহে এক সৌদি নাগরিককে ফ্রান্সে গ্রেফতার করা

সিলেটসহ ৫ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট হচ্ছে

সিলেটসহ ৫ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিট হচ্ছে

নিউজ ডেস্কঃ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ৭ হাজার ৪৪৭ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১০টি প্রকল্প অনুমোদন

ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ওমিক্রন থামাবে না: ডব্লিউএইচও

ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ওমিক্রন থামাবে না: ডব্লিউএইচও

নিউজ ডেস্কঃ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন। এর বিস্তার রোধে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। তবে এই