নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ফোনস ক্লাব অ্যান্ড গিফট শপে দূর্ধর্ষ চুরি, এলাকায় আতঙ্ক (ভিডিও)

অনলাইন ডেস্ক : নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাঙালি মালিকানাধীন ফোনস ক্লাবে দূর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। গত ৬ জুলাই সোমবার ভোর রাতে ব্রঙ্কসের বাঙালী অধ্যুষিত স্টারলিং-বাংলাবাজার এলাকায় ১৪৬৪ ইউনিয়নপোর্ট রোডের ফোনস ক্লাব অ্যান্ড গিফট শপে এ দু:সাহসিক চুরি সংঘটিত হয়। চোরেরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির শাটারের তালা ও গ্লাস ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে মূল্যবান মোবাইল ফোন সেট সহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লন্ঠিত মালামালের মূল্য ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ৫০ হজার ডলার বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লন্ঠিত মালামাল উদ্ধার কিংবা কেউ গ্রেফতার হয়নি। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ফোনস ক্লাবে অ্যান্ড গিফট শপের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও সুমন চৌধুরী ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে জানান, স্থানীয় সময় ৫ জুলাই রোববার রাত প্রায় সাড়ে ৯টায় তারা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে যথারীতি বাসায় যান। পরদিন ৬ জুলাই সোমবার ভোর প্রায় সাড়ে ৫টায় পুলিশ তার পার্টনার হাসান চৌধুরীকে ফোন করে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনাটি জানান। খবর পেয়ে তিনি সাথে সাথে দোকানে ছুটে আসেন। এসময় তিনি ১০/১২ জন পুলিশের উপস্থিতিতে দেখতে পান দোকানের সামনের শাটার ও দরজার তালা এবং গ্লাস ভাঙ্গা। চোরেরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলে। চোরেরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির মূল্যবান মোবাইল ফোন সেট সহ অন্যান্য মালামাল লুটে নিয়ে জিনিষ পত্রও তছনছ করেছে।
সুমন চৌধুরী ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে জানান, চুরির ঘটনাটি কে বা কারা পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

তিনি জানান, চুরির ঘটনায় লন্ঠিত মালামাল সহ প্রায় ৫০ হাজার ডলারের ক্ষতি সাধিত হয়েছে তাদের।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে জানান, স্টারলিং-বাংলাবাজার এলাকার এ মার্কেটের ৩৩ বছরের ইতিহাসে এমন দু:সাহসিক চুরির ঘটনা এবারই প্রথম ঘটলো।
ফোনস ক্লাবে অ্যান্ড গিফট শপের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও সুমন চৌধুরী ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে জানান, পুলিশ এব্যাপারে তৎপর রয়েছে। পুলিশ অপরাধীদের সনাক্ত করতে ঘটনাস্থল থেকে আঙুলের ছাপ এবং গ্লাস ভাঙ্গার সময় চোরদের পড়ে থাকা রক্তও নিয়ে গেছে। সুমন চৌধুরী জানান, পুলিশ তাকে বলেছেন, গুরুত্বসহকারে বিষয়টি নিয়ে তারা এগুচ্ছেন। চোরদের আঙুলের ছাপ এবং রক্তের রিপোর্ট আসতে একমাস সময় লাগবে। পুলিশ পার্শ্ববর্তী দোকানের সিসি ক্যামেরা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে চোরদের গ্রেফতার ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে তাকে জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকার ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। পুলিশি টহল জোরদার করার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের ২ মে ভোর রাতে একই এলাকার ২০৬২ মেগ্গ্র এভিনিউর খলিল হালাল চাইনিজ অ্যান্ড খলিল পার্টি সেন্টারেও দু:সাহসিক চুরি সংঘটিত হয়। চোরেরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির পেছনের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে ক্যাশ রেজিস্টার লুট করে। প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ডিভিআরটিও নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে পুলিশ রিপোর্ট করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনাস্থল থেকে আঙুলের ছাপ নিয়ে যায়। খলিল হালাল চাইনিজ অ্যান্ড খলিল পার্টি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও মোঃ খলিলুর রহমান ইউএসএনিউজঅনলাইন.কমকে জানান, চুরির ওই ঘটনায় নগদ আড়াই’শ ডলার সহ তার প্রায় দু’হাজার ডলারের ক্ষতি সাধন হয় তার। পুলিশ ওই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *