নিউইয়র্কে জব সেমিনার : চাকুরী ও ব্যবসা বিষয়ক তথ্য প্রদান

নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে ১৩১ তম জব-সেমিনারটি বাংলাদেশী-আমেরিকান কারেকশান এসোসিয়েশান (বাকা) এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজকর্মী আখতার হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডঃ এস. আই শেলী। সেমিনারটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশী-আমেরিকান কম্যুনিটিতে জব সেমিনারের সফল রূপকার, সমাজকর্মী খান শওকত।

 

 

গত ২ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের বাঙালী অধ্যূষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে শতাধিক পদে চাকুরীর তথ্য,¯বল্পমূল্যে সরকারী বাসস্থান, স্পোকেন ইংলিশ এবং বিভিন্ন কারিগরী প্রশিক্ষন বিষয়ক তথ্য তুলে ধরা হয়। আগামী ১ মাস ব্যাপী নিউইয়র্কে যে সকল সরকারী চাকুরীতে (সিটি, ষ্টেট ও ফেডারেল) নিয়োগ দেয়া হবে এমন প্রায় ৩০ টা পদে আবেদনের তথ্য ছাড়াও নবাগতদের জন্য বেসরকারী পদে অফিস সেক্রেটারী, বেবী সিটার, লীভ ইন ন্যানি, মার্কেটিং সহকারী, বিক্রয় প্রতিনিধি, গ্রাফিক ডিজাইনার, কুক, ওয়েটার, পিজা ষ্টোরে কাজ, পোলট্রি ফার্মে কাজ, সহকারী কাউন্টারম্যান, টিউটর, সেলসম্যান, ক্যাশিয়ার, ডানকিন ডোনাটস -এ চাকুরী, রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার, গ্যাস ষ্টেশনের জব, ফুটকার্টের জব, সাইড শেফ, তান্দুরীম্যান, স্যান্ডউহচ সেফ, সিকিউরিটি গার্ড, হেলথ কেয়ার এইড, ডেলিভারীম্যান, বিউটিশিয়ান, আইলেস লেডি, সহকারী ম্যানেজার, হটডগ ম্যান, ডেন্টাল ল্যাব সহকারী, আই-টি-স্পেশালিষ্ট, উইকেন্ড ওয়ার্কার, হাফেজ, ঈমাম, কুরান শিক্ষক, জায়রো ম্যান এমন প্রায় ৩০০ টি পদে আবেদনের তথ্য সহ পার্ট-টাইম জব, ফুলটাইম জব, ঘরে বসে চাকুরী ও ব্যবসা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য প্রদান করা হয়। খান শওকত বলেন: আর দশ-জনের মতো আমেরিকান ড্রিম নিয়ে ১৯৯০ সালে আমি আসি এই নিউইয়র্কে। একটি ভালো চাকুরীতে কিভাবে যোগদান করতে পারি এই প্রশ্ন নিয়ে সে সময়ের সিনিয়র প্রবাসীদের কাছে পরামর্শের জন্য বারবার দেখা করেছি। কিন্তু একটি বিষয় আমাকে আহত করে। তাহলো: যারা তথ্য জানেন বা একটু উপরে উঠে গেছেন কেন জানি তারা এসব তথ্য কাউকে বলতে চাননা। বরং উল্টো এমনভাবে বলেন, তাতে আরো ভয় পেতে হয় অথবা কনফিজড হতে হয়। সাপ্তাহিক চীফ-লীডার পত্রিকায় সরকারী চাকুরীর তথ্য পাওয়া যায় এই ইনফরমেশনটাও আমি কোন বাঙ্গালী ভাই/বোনের কাছ থেকে জানতে পারিনি। ১৯৯৬ সালে একজন আফ্রিকান আমেরিকানের কাছ থেকে এই তথ্য পেয়েছিলাম। এরপর চাকুরী পাবার পর স্বপ্ন দেখি জব-সেমিনার এর। সমাজকর্মী আখতার হোসেন বলেন: সিটি জব তো অনেকেই করেন, ক’জন চিন্তা করেন কম্যুনিটির সবার জন্য চাকুরীর সুযোগ তৈরীর? শত বাঁধা সত্ত্বেও খান শওকত এটা করে যাচ্ছেন। আমরা যখন থাকবোনা, এসব কাজের প্রসঙ্গ গুলো থাকবে।

 

ডঃ এস. আই শেলী বলেন, একথা সত্যি নিউইয়র্কে আছে অনেক সংগঠন এবং আছেন অনেক নেতা। সবাই নিবেদিত কম্যুনিটি সেবায়। অনেকেই মনে করেন, মানুষের কল্যানে এরা সবাই মিলে যা করতে পারেননি, খান শওকত তার একক প্রচেষ্টায় অনেক বেশী করেছেন। একজন সমস্যাগ্রস্থ মানুষকে চাকুরীর ব্যবস্থা করে দেবার মতো মহতী উপকার করা সহজ কাজ নয়। এই কাজটি নিয়মিতভাবে খান শওকত করে চলেছেন গত ১৭টি বছর। এপর্যন্ত তার পরামর্শ নিয়ে চাকুরী পেয়েছেন প্রায় ৬,৫০০ প্রবাসী। মানুষের কল্যাণে তার এই সেবা সর্বত্রই সমাদৃত।

 

উল্লেখ্য, একটি সফল কম্যুনিটি গড়ে তোলার জন্য গত ৮-০২-২০০২ তাং থেকে “সবার জন্য চাকুরী এবং হতাশামুক্ত কম্যুনিটি”-র স্বপ্নে খান শওকত এই জব সেমিনারটি পরিচালনা করে আসছেন। এ আয়োজনের মাধ্যমে তিনি আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির উপকারার্থে বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরবরাহ করেন। এই জব সেমিনারের মাধ্যমে অসংখ্য প্রবাসী তথ্য জেনে এবং নিজেদের যোগ্যতার পরীক্ষা দিয়ে ভালো বেতনের চাকুরী পেয়ে উপকৃত হয়েছেন। বিষয়টি কম্যুনিটির সকল পত্রিকা ছাড়াও মূলধারায়ও প্রশংসিত হয়েছে। আমেরিকার বিখ্যাত পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমস (১১-২৯-২০১৩), নিউইয়র্ক পোষ্ট (৯-০১-২০০৪) সহ বিভিন্ন পত্রিকায় জব-সেমিনার -এর উপর প্রশংসিত রিপোর্ট প্রকাশিতও হয়েছে। এপর্যন্ত গত ১৫ বছর যাবৎ জব সেমিনারের সহযোগিতায় প্রায় সাড়ে ৬ হাজার প্রবাসী চাকুরী পেয়েছেন, প্রায় ২ হাজার প্রবাসী স্পোকেন ইংলিশ শিখেছেন, প্রায় ২ হাজার প্রবাসী বেসিক কম্পিউটার শিখেছেন, প্রায় ১,০০০ জন আই.টি. সেক্টরে চাকুরী পেয়েছেন এবং প্রায় ২ হাজার পরিবার স্বল্পভাড়ায় সরকারী বাসা পেয়ে উপকৃত হয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে একত্রে যাদের বাৎসরিক আয় ৫০,০০০ ডলারের কম তারা প্রত্যেকেই স্বল্প ভাড়ায় সরকারী বাসা পেতে পারেন (আবেদকারীর গ্রীন কার্ড থাকতে হবে)। এ বিষয়ে ৩১১-এ ফোন করে বা অনলাইনে আবেদন করা যায়। সরকারী চাকুরীর তথ্য জানতে প্রতি শুক্রবার সাপ্তাহিক চীফ লীডার পত্রিকাটি পড়লে এ বিষয়ে তথ্য জানা যাবে। বাংলাদেশের শিক্ষাগত যোগ্যতা ইভ্যালুয়েশান করতে ম্যানহাটান-এর গে¬াব ল্যাঙুয়েজ সেন্টারে (ফোন: ২১২-২২৭-১৯৯৪) যোগাযোগ করা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *